ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান হুমকির মধ্যেই সৌদি আরবের নেতৃত্বে বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশ নিয়ে নতুন সমুদ্রকেন্দ্রিক সামরিক জোট গঠন করা হয়েছে। লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দেব প্রণালি এবং এডেন উপসাগরের মতো আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলোতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা এবং বিশ্ব বাণিজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স নামে এই জোট গঠন করা হয়েছে যৌথ সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে।
জোটভুক্ত দেশগুলো জানিয়েছে, ভারত মহাসাগরকে ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই কৌশলগত সমুদ্রপথে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি পরিবহণ নিরাপদ রাখাই হবে তাদের প্রধান লক্ষ্য।
সৌদি আরব বৃহস্পতিবার ঘোষণা দিয়েছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালি এবং এর আশপাশের নৌপথে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে তারা একটি সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠন করেছে।
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা গত সপ্তাহে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর এই উদ্যোগ নেওয়া হলো। হুথিরা দাবি করেছে, তারা লোহিত সাগরে সৌদি তেলবাহী জাহাজ এবং দেশটির তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। বাব আল-মান্দাব প্রণালি দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার পর এই পথ দিয়ে সৌদি আরবের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহন করা হয়।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জোটভুক্ত ১৪টি দেশের পক্ষে এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, জোটের সদস্য দেশগুলো হলো—সৌদি আরব, বাহরাইন, বাংলাদেশ, জিবুতি, মিসর, জর্দান, কুয়েত, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, কাতার, সোমালিয়া, সুদান, তুরস্ক ও ইয়েমেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, এই জোটের লক্ষ্য হলো সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করা, নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ ও জ্বালানি সরবরাহ লাইন সুরক্ষিত রাখা এবং বাব আল-মান্দাব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে সদস্য দেশগুলোর অভিন্ন সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষা করা।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, জোট গঠন নিয়ে বৃহস্পতিবার রিয়াদে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ৫১টি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
এতে ৪৩টি দেশের প্রতিনিধি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে ১৪টি দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে জোটে সমর্থন জানিয়েছে এবং অন্য কয়েকটি দেশ সমর্থন দেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।












